ajkerit

চেয়ারে বসে নামায পড়া সংক্রান্ত মাসায়েল ও বিধিবিধান

কতটুকু-কষ্ট-হলে-ফরয-নামায-বসে-পড়া-জায়েয


তারাবীর নামাযে কিছু মুসল্লির চেয়ার প্রয়োজন হয়। আমরা জেনেছি যে, চেয়ারের পিছনের পা-গুলো কাতারের সমান্তরালে রাখা হবে; যদি গোটা নামাযকালীন সময়ে চেয়ারে বসে নামায পড়েন। কিন্তু প্রশ্ন হলো নিম্নোক্ত অবস্থাগুলো সম্পর্কে:

১। যে ব্যক্তি কেবল দাঁড়ানোর সময়টুকু চেয়ারে বসে?

২। যে ব্যক্তি রুকু, সেজদা কিংবা তাশাহ্‌হুদের সময় চেয়ারে বসে?

৩। যে ব্যক্তি নামাযের বিক্ষিপ্ত অংশে চেয়ারে বসে?

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

কিয়াম, রুকু ও সেজদা নামাযে রুকন (আবশ্যকীয় কাঠামো)। যে ব্যক্তির সক্ষমতা আছে তার জন্য শরিয়তের বর্ণিত কাঠামো অনুযায়ী এগুলো পালন করা ওয়াজিব (আবশ্যকীয়)। আর যে ব্যক্তি রোগের কারণে কিংবা বয়সের কারণে অক্ষম সেই ব্যক্তি ভূমিতে কিংবা চেয়ারে বসতে পারেন।

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “তোমরা নিয়মিতভাবে নামাযের হেফাযত কর। বিশেষতঃ মধ্যবর্তী নামায। আর আল্লাহ্‌র প্রতি বিনয়াবনত হয়ে দাঁড়াও।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২৩৮]

ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: “আমার অর্শ রোগ ছিল। সে প্রসঙ্গে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন: তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়বে; যদি দাঁড়াতে না পার তাহলে বসে পড়বে। যদি বসতে না পার তাহলে কাত হয়ে শুয়ে নামায পড়বে।”[সহিহ বুখারী (১০৬৬)]

ইবনে কুদামা আল-মাক্বদিসি বলেন:

“আলেমগণ এই মর্মে ইজমা করেছেন যে, যেই ব্যক্তি দাঁড়াতে পারে না সে বসে নামায পড়বে।”[আল-মুগনী (১/৪৪৩)]

ইমাম নববী বলেন:

“উম্মাহ এই মর্মে ইজমা করেছে— যে ব্যক্তি ফরয নামাযে দাঁড়াতে অক্ষম সে বসে নামায পড়বে; তাকে নামায পুনরায় পড়তে হবে না। আমাদের মাযহাবের আলেমগণ বলেন: দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সওয়াব থেকে তার সওয়াব কম হবে না। কেননা সেই ব্যক্তি ওজরগ্রস্ত। সহিহ বুখারীতে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি কোন বান্দা অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকে সে সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় যে আমল করত তার জন্য তাই লেখা হবে।” [আল-মাজমু’ গ্রন্থে (৪/২০১)]

শাওকানী বলেন:

“ইমরান (রাঃ) এর হাদিস প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তির কোন ওজর ঘটেছে, যার কারণে সে দাঁড়াতে পারে না; তার জন্য বসে নামায পড়া জায়েয এবং যে ব্যক্তির এমন কোন ওজর ঘটেছে যার কারণে সে বসতে পারে না; তার জন্য কাত হয়ে শুয়ে নামায পড়া জায়েয।”[নাইলুল আওতার (৩/২৪৩)]

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন:

“মুসলমানগণ এই মর্মে একমত যে, যে মুসল্লি নামাযের কিছু ওয়াজিব আদায় করতে অক্ষম; যেমন- দাঁড়ানো, তেলাওয়াত করা, রুকু করা, সেজদা করা, সতর ঢাকা কিংবা ক্বিবলামুখী হওয়া ইত্যাদি তাহলে সে যা করতে অক্ষম সেটা তার উপর থেকে মওকুফ হবে।”[মাজমুউল ফাতাওয়া (৮/৪৩৭) থেকে সমাপ্ত]

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে যেই ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বসে নামায পড়ে তার নামায বাতিল।

দুই:

এ বিষয়ে সতর্ক থাকা বাঞ্চনীয়: যে ব্যক্তি দাঁড়ানো ত্যাগ করার ক্ষেত্রে ওজরগ্রস্ত; তার এই ওজর তার জন্য রুকু-সেজদাকালে চেয়ারে বসাকে বৈধ করবে না।

নামাযের ওয়াজিবসমূহের ক্ষেত্রে বিধি হলো: মুসল্লি যতটুকু করার সক্ষমতা রাখেন ততটুকু করা তার উপর ওয়াজিব। আর যা করতে অক্ষম ততটুকু তার উপর থেকে মওকুফ হবে।

যে ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম তার জন্য দাঁড়ানোর সময় চেয়ারে বসা জায়েয হবে; সে রুকু-সিজদা সঠিক কাঠামোতে আদায় করবে। আর যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয়; কিন্তু রুকু-সেজদা দিতে কষ্ট হয়; তাহলে দাঁড়িয়ে নামায পড়বে, এরপর রুকু-সেজদাকালে চেয়ারে বসবে। এবং সেজদাকালে মাথাকে রুকুর চেয়ে বেশি নোয়াবে।

ইবনে কুদামা আল-মাক্বদিসি বলেন:

“যে ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম, রুকু কিংবা সেজদা দিতে অক্ষম: তার জন্য দাঁড়ানো মওকুফ হবে না। সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায পড়বে। ইশারাতে রুকু করবে। এরপর বসবে এবং ইশারাতে সেজদা করবে। এটি ইমাম শাফেয়ি বলেছেন...। আল্লাহ্‌ তাআলার এ বাণী: “আর আল্লাহ্‌র প্রতি বিনয়বনত হয়ে দাঁড়াও”। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়বে”-র প্রেক্ষিতে। তাছাড়া যে ব্যক্তির দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে তার জন্য এটি রুকন (আবশ্যকীয় কাঠামো)। তাই তেলাওয়াতের মত এটি পালন করা আবশ্যকীয়। অন্য কোনটি পালনে অক্ষম হওয়া এটি মওকুফ হওয়াকে অনিবার্য করে না; যেমনিভাবে কেউ যদি তেলাওয়াত করতে অক্ষম হয়।”[আল-মুগনী (১/৪৪৪) থেকে সংক্ষেপে সমাপ্ত]

শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায (রহঃ) বলেন:

যে ব্যক্তি ভূমিতে বসে বা চেয়ার বসে নামায পড়ে তার উপর আবশ্যক হলো: তার সেজদাকে রুকুর চেয়ে নীচু করা। সুন্নাহ হলো: রুকুর সময় সে তার হাতদ্বয় তার হাঁটুর উপর রাখবে। আর সেজদা অবস্থায় ওয়াজিব হলো: সক্ষম হলে হাতদ্বয় ভূমিতে রাখা। আর সক্ষম না হলে হাতদ্বয় হাঁটুর উপর রাখা। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেন: “আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে সাতটি হাড্ডির উপর সেজদা করতে: কপাল, তিনি নাকের দিকে ইশারা করেন, হাতদ্বয়, হাঁটুদ্বয় এবং পায়ের আঙ্গুলের উপর।”

যে ব্যক্তি এভাবে করতে অক্ষম হওয়ায় চেয়ারে বসে নামায আদায় করে তাতে কোন আপত্তি নেই। দলিল হলো আল্লাহ্‌ তাআলার বাণী: “তোমরা আল্লাহকে সাধ্যানুযায়ী ভয় কর”। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “আমি যখন তোমাদেরকে কোন আদেশ করি তখন তোমরা সাধ্যানুযায়ী সেটি পালন কর।”[সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম][ফাতাওয়া বিন বায (১২/১৪৫, ১৪৬)]

তিন:

চেয়ার কাতারে রাখা: আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি বসে নামায পড়ে তার ক্ষেত্রে ধর্তব্য হলো: তার নিতম্ব কাতারের সমান্তরালে হওয়া; কাতার থেকে আগে বা পিছে না হওয়া। কেননা এটাই হলো সেই স্থান যেখানে তার দেহ স্থিতিশীল হয়।

দেখুন: আসনাল মাতালিব (১/২২২), তুহফাতুল মুহতাজ (২/১৫৭), শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (১/২৭৯)।

আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যাতে (৬/২১) এসেছে:

“ইক্বতিদা শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো (অর্থাৎ ইমামের পেছনে মোক্তাদির ইক্বতিদা): মোক্তাদি দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ইমামের অগ্রবর্তী না হওয়া; এটি জমহুর ফিকাহবিদ (হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি) এর অভিমত।

অগ্রবর্তী হওয়া বা না-হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্তব্য হলো: দণ্ডায়মান ব্যক্তির পায়ের গোড়ালি; আর তা হলো পায়ের পাতার পশ্চাদ্ভাগ; টাকনু নয়। যদি পায়ের গোড়ালি সমান্তরালে হয়; কিন্তু মোক্তাদির আঙ্গুল লম্বা হওয়ায় সামনে চলে যায়; এতে অসুবিধা নেই...। আর উপবিষ্টের ক্ষেত্রে ধর্তব্য হলো নিতম্ব। আর শয়নরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার পার্শ্বদেশ।”[সমাপ্ত]

তাই মুসল্লি যদি নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চেয়ারে বসে নামায পড়েন তাহলে তিনি তার বসার স্থানকে কাতারের সমান্তরাল করবেন।

যদি তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়েন; কিন্তু রুকু ও সেজদাকালে বসেন; এ সম্পর্কে আমরা ফাযিলাতুশ শাইখ আব্দুর রহমান আল-বার্‌রাককে জিজ্ঞেস করেছি: তিনি বলেন: ধর্তব্য হবে দাঁড়ানো অবস্থা। অতএব, সেই ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থাকে কাতারের সমান্তরাল করবেন। এই অভিমতের ভিত্তিতে তখন চেয়ার কাতারের পেছনে থাকবে। তবে এমন স্থানে হওয়া উচিত যাতে করে পেছনের মুসল্লিরা কষ্ট না পায়।

যারা মসজিদে চেয়ারে বসে নামায পড়েন

প্রশ্ন
কোন কোন মসজিদে আমরা দেখতে পাই কিছু মুসল্লির জন্য চেয়ার রাখা আছে। এসব মুসল্লি চেয়ারে বসে ইমামের সাথে ফরয নামায কিংবা তারাবীর নামায আদায় করেন। ইনাদের নামাযের হুকুম কী? 

উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.

নামাযে ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো নামাযের একটি রুকন। শরিয়ত অনুমোদিত ওজর ছাড়া যে ব্যক্তি নামাযের তাকবীরে তাহরীমার শুরু থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত দাঁড়াবে না তার নামায বাতিল। আল্লাহ্‌তাআলা বলেন: "তোমরা আল্লাহ্‌র জন্য বিনয়াবনত হয়ে দাঁড়াও"[সূরা বাক্বারা; ২:২৩৮]

'দাঁড়ানোটা' নামাযের রুকন হওয়া ফরয নামাযের জন্য খাস। নফল নামাযে দাঁড়ানো ওয়াজিব নয়। বরং বসে নামায পড়া জায়েয। কেউ যদি বসে নামায পড়ে তাহলে সে ব্যক্তি অর্ধেক সওয়াব পাবে।

'দাঁড়ানোটা' ফরয নামাযের সাথে খাস হওয়ার দলিল হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস: "তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়"।[সহিহ বুখারী (১০৬৬)]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সওয়ারীর ওপর নফল নামায পড়তেন। যখন ফরয নামায পড়তে চাইতেন তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে যেতেন।[সহিহ বুখারী (৯৫৫) ও সহিহ মুসলিম (৭০০)] তিনি এটি করতেন দাঁড়ানোর রুকন আদায় করা ও কিবলামুখী হওয়ার জন্য।

কারো দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকার পরেও সে যদি বসে নফল নামায আদায় করে তাহলে সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে। যেহেতু আব্দুল্লাহ্‌বিন আমর (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে: "তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমাকে হাদিস বলা হয়েছে যে, আপনি বলেছেন বসে নামায আদায়কারী অর্ধেক সওয়াব পাবে। কিন্তু আপনি তো বসে নামায আদায় করেন। তিনি বললেন: ঠিকই। কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই।"[ইমাম মুসলিম (৭৩৫) বর্ণিত হাদিসের অংশবিশেষ]

ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: "এ হাদিসকে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বসে বসে নফল নামায পড়ার অর্থে বুঝতে হবে। এমন নামাযী দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবেন। পক্ষান্তরে, যদি দাঁড়াতে অক্ষম হওয়ার কারণে বসে নামায পড়েন সেক্ষেত্রে তার সওয়াব কম হবে না। বরং সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন। আর দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তি বসে বসে ফরয নামায আদায় করলে তার নামায শুদ্ধ হবে না। সুতরাং সে কোন সওয়াব পাবে না। বরং তার গুনাহ হবে।"[শারহু মুসলিম (৬/২৫৮)]

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা চেয়ারে বসে নামায আদায়কারী সেসব মুসল্লিগণকে বলব যারা ফরয নামাযের জন্য দাঁড়ান না: যদি আপনাদের দাঁড়ানোর মত সক্ষমতা থাকে তাহলে বসে বসে নামায আদায় করা আপনাদের জন্য জায়েয হবে না; যদি না আপনাদের এমন কষ্ট হয় যার ফলে ক্ষতি হতে পারে। সামান্য কষ্ট কোন ওজর নয়।

কতটুকু কষ্ট হলে ফরয নামায বসে পড়া জায়েয?

আলহামদু লিল্লাহ।.

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিয়াম (দাঁড়ানো) ফরয নামাযের একটি রুকন (আবশ্যকীয় কাঠামো)। সুতরাং যে ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম সে বসে নামায পড়লে শুদ্ধ হবে না। এই রুকনটি নামাযের অন্য ওয়াজিবসমূহের মত ওজর থাকলে মওকুফ হয়ে যায়।

ইমাম নববী ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে (৪/২০১) বলেন:

“উম্মাহ এই মর্মে ইজমা করেছে— যে ব্যক্তি ফরয নামাযে দাঁড়াতে অক্ষম সে বসে নামায পড়বে; তাকে নামায পুনরাবৃত্তি করতে হবে না। আমাদের মাযহাবের আলেমগণ বলেন: দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সওয়াব থেকে তার সওয়াব কম হবে না। কেননা সেই ব্যক্তি ওজরগ্রস্ত। সহিহ বুখারীতে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি কোন বান্দা অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকে সে সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় যে আমল করত তার জন্য তাই লেখা হবে।”[সমাপ্ত]

দাঁড়ানো মওকুফ হওয়া ও বসে ফরয নামায আদায় করা সংক্রান্ত ওজরের মূলনীতি:

১। দাঁড়াতে অক্ষম হওয়া।

২। রোগ বেড়ে যাওয়া।

৩। আরোগ্য লাভ বিলম্বিত হওয়া।

৪। এত তীব্র কষ্ট হওয়া যে, নামাযের খুশু নষ্ট করে দেয়; যদি এর চেয়ে কম কষ্ট হয় তাহলে বসে নামায পড়া জায়েয হবে না।

ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: “আমার অর্শ রোগ ছিল। সে প্রসঙ্গে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন: তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়বে; যদি দাঁড়াতে না পার তাহলে বসে পড়বে। যদি বসতে না পার তাহলে কাত হয়ে শুয়ে নামায পড়বে।”[সহিহ বুখারী (১১১৭)]

হাফেয ইবনে হাজার বলেন:

“হাদিসের ভাষ্য: ‘যদি দাঁড়াতে না পার’ -এর মাধ্যমে ঐ সকল আলেম দলিল দেন যারা বলেন যে, দাঁড়াতে অক্ষম না হলে বসা যাবে না। কাযী ইয়ায এটি ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালেক, আহমাদ ও ইসহাক্ব থেকে বর্ণিত আছে যে, সক্ষমতা শূণ্য হওয়া শর্ত নয়; বরং কষ্ট পাওয়াই যথেষ্ট। শাফেয়ি মাযহাবের সুবিদিত অভিমত হলো: সক্ষমতা না থাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে— দাঁড়াতে তীব্র কষ্ট হওয়া কিংবা রোগ বেড়ে যাওয়া কিংবা মৃত্যুর আশংকা করা; কিঞ্চিৎ কষ্ট হওয়া যথেষ্ট নয়। তীব্র কষ্টের মধ্যে পড়বে: জাহাজে আরোহী দাঁড়িয়ে নামায পড়লে মাথা ঘুরানো এবং ডুবে যাওয়ার আশংকা করা।

জমহুরের অভিমতের পক্ষে প্রমাণ করে ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর হাদিস যা তাবারানী সংকলন করেছেন: “সে দাঁড়িয়ে নামায পড়বে। যদি তাতে কষ্ট হয় তাহলে বসে পড়বে। যদি তাতে কষ্ট হয় তাহলে শুয়ে পড়বে।”[ফাতহুল বারী থেকে সমাপ্ত]

ইবনে আব্বাসের যে হাদিসটি ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন সেটি আল-হাইছামী তাঁর ‘মাজমাউয যাওয়ায়েদ’ গ্রন্থে (২৮৯৭) উল্লেখ করে বলেন: ‘হাদিসটি তাবারানী ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেন: ইবনে জুরাইজ থেকে হাদিসটি হালস বিন মুহাম্মদ আদ-দাবাঈ ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেনি। আমি (হাইছামী) বললাম: কেউ তার পরিচয় লিখেছেন মর্মে আমি পাইনি। অন্য বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য)।[সমাপ্ত]

ইবনে কুদামা ‘আল-মুগনী’ (১/৪৪৩) বলেন:

“যদি তার পক্ষে দাঁড়ানো সম্ভবপর হয়; কিন্তু সে রোগ বেড়ে যাওয়া, কিংবা সুস্থতা বিলম্বিত হওয়া কিংবা তীব্র কষ্ট হওয়ার আশংকা করে— তাহলে সে ব্যক্তি বসে নামায পড়বে। এমন কথা ইমাম মালেক ও ইসহাক্ব বলেছেন; আল্লাহ্‌ তাআলার বাণী: “তিনি দীনের ক্ষেত্রে তোমাদের উপর কোনো কষ্ট আরোপ করেনি”।[সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৭৮]-এর প্রেক্ষিতে। আর এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়ার দায়িত্বারোপের মধ্যে কষ্ট রয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ডান পার্শ্ব যখন জখম হয়েছিল তখন তিনি বসে নামায পড়েছিলেন। বাহ্যতঃ বুঝা যায়, তিনি বিলকুল দাঁড়াতে সক্ষম ছিলেন না; এমনটি নয়। কিন্তু দাঁড়াতে তাঁর কষ্ট হচ্ছিল। তাই দাঁড়ানো তাঁর থেকে মওকুফ হয়েছে।”[সমাপ্ত]

ইমাম নববী ‘আল-মাজমু’-তে (৪/২০১) বলেন:

“আমাদের মাযহাবের আলেমগণ বলেন: অক্ষমতার ক্ষেত্রে দাঁড়াতে না-পারা শর্ত নয় এবং কিঞ্চিৎকর কষ্ট হওয়াও যথেষ্ট নয়। বরং ধর্তব্য হলো স্পষ্ট কষ্ট। যদি কেউ তীব্র কষ্ট কিংবা রোগবৃদ্ধি কিংবা এ ধরণের কিছুর ভয় করে কিংবা জাহাজের আরোহী পানিতে পড়ে যাওয়া কিংবা মাথা ঘুরানোর আশংকা করে— তাহলে বসে নামায পড়বে এবং নামাযটি পুনরায় পড়তে হবে না। ইমামুল হারামাইন বলেন: অক্ষমতাকে বিধিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আমার মত হলো: দাঁড়ানোর প্রেক্ষিতে এমন কষ্ট হওয়া যা নামাযের খুশু (মনোযোগ) নষ্ট করে দেয়। কেননা খুশু নামাযের মূল উদ্দেশ্য।”[সমাপ্ত]

ইমামুল হারামাইন যা নির্বাচন করেছেন শাইখ উছাইমীন সেটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন: কষ্টের বিধি হলো— যার মাধ্যমে খুশু নষ্ট হয়। খুশু হচ্ছে অন্তরের উপস্থিতি ও স্থিতিশীলতা। যদি দাঁড়ালে তীব্র আতঙ্কে থাকে, মন স্থিতিশীল না হয় এবং তীব্র কষ্টের কারণে কামনা করে যে, সূরা ফাতিহার শেষ পর্যন্ত পৌঁছলে রুকু করে ফেলবে: তাহলে এই ব্যক্তির জন্য দাঁড়ানোটা কষ্টকর। তিনি বসে নামায পড়বেন।”[আল-শারহুল মুমতি (৪/৩২৬) থেকে সমাপ্ত]

উপসংহারঃ

 এই পোস্টটি শুধুমাত্র আপনার কাছে পৌঁছানোর জন্য শেয়ার করেছি।  এগুলা আমার লিখা নয়।  এই পোস্ট গুলি লিখেছেন https://islamqa.info/ নিচের নিচের তিনটি লিংক থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। আসসালামু আলাইকুম

তথ্যসূত্র




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
ajkerit
ajkerit
ajkerit
ajkerit